রোমান সাম্রাজ্যের কনস্টানটিনোপল নগরী অটোমান সাম্রাজ্যের হাত ধরে হয়ে উঠেছিল ইস্তাম্বুল। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরটি সোভিয়েত আমলে পরিচিত হয়েছিল লেনিনগ্রাদ নামে। ঔপনিবেশিক শক্তির বিদায়ে অনেক দেশের নাম বদলেরও উদাহরণ রয়েছে।
বাংলাদেশেও ক্ষমতার পালাবদলে এমন পরিবর্তন ঘটেছে। কখনো চট্টগ্রাম এম এ হান্নান বিমানবন্দরের নাম বদলে করা হয়েছে শাহ আমানত বিমানবন্দর আবার কখনো জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বদলে হয়েছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সড়ক, ভবন কিংবা পুরো দেশের নামই পরিবর্তন করার নজির নতুন নয়। যার পেছেনে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক কিংবা ঐতিহাসিক নানা কারণ রয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
যদিও বাংলাদেশে নাম পরিবর্তনের ইতিহাসে সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বারবার সামনে এসেছে বলেই মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা তিন মেয়াদের শাসনামলে শেখ পরিবারের নামে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান বা সড়কের নামকরণের উদাহরণ যেমন রয়েছে, তেমনি শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ঢালাওভাবে অনেক নামের অযৌক্তিক পরিবর্তনের উদাহরণও তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে এ ধরনের পরিবর্তন ঐতিহাসিক স্মৃতি মুছে রাজনীতিতে ‘কাউন্টার ন্যারেটিভ’ কিংবা প্রতিহিংসার রাজনীতি হিসেবেও দেখার সুযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি আবাসিক হল বা স্থাপনার নাম পরিবর্তন ঘিরে আবারও নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে শেখ পরিবারের সদস্যদের নামে প্রতিষ্ঠান বা স্থাপনার নামকরণের বিষয়টি যে বাড়াবাড়ি মাত্রা পেয়েছিল, তারই পাল্টা প্রতিক্রিয়া এখন দেখা যাচ্ছে।
তবে শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম বদলের বিষয়টিকে ‘সঠিক সিদ্ধান্ত নয়’ বলেই মত দিয়েছেন অনেকে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. খোরশেদ আলম বলছেন, শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানও স্বীকার করা উচিত।
“আপনি নয়া বন্দোবস্তের কথা বলছেন, দায় এবং দরদের কথা বলছেন, কিন্তু অতীতের পুনরাবৃত্তি করছেন- এটা তো আমরা চাই না,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল ও কর্মচারীদের আবাসন টাওয়ারসহ অন্তত পাঁচটি স্থাপনার নাম রয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে।
সম্প্রতি দুটি হলসহ ক্যাম্পাসের এই স্থাপনাগুলো থেকে শেখ হাসিনা পরিবারের সদস্যদের নাম বদলাতে ছাত্র সংসদের দাবি সিনেটে পাঠিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
যেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম ‘শহিদ ওসমান হাদী হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম ‘বীর প্রতীক ক্যাপ্টেন সেতারা বেগম হল’ রাখার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া সুলতানা কামাল হোস্টেল এবং রাসেল টাওয়ার ও বঙ্গবন্ধু টাওয়ারের নাম পরিবর্তনের কথাও বলা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, ডাকসুর দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে নাম পরিবর্তনের বিষয়টি সিনেটে পাঠানো হয়েছে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের নামে থাকা এই স্থাপনাগুলোর নাম পরিবর্তনের দাবিটি সামনে আসে।
শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম বদলে ‘কাজী নজরুল ইসলাম হল’ করার দাবি জানিয়েছিল শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।
এমনকি এই দাবির পক্ষে শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর করা একটি আবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দিয়েছিলেন ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিরা।
এছাড়া আবাসিক হলটির মূল ফটকের নামফলকে কাজী নজরুল হল লেখা একটি ব্যানারও ঝুঁলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে আগের অবস্থান থেকে সরে, দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির নামে হলটির নামকরণ করার দাবি জানানো হয়। এমনকি হলের মূল ফটকে শেখ মুজিবের নাম মুছে ওসমান হাদীর নামও লিখে দেওয়া হয়।
https://slotbet.online/