• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পটুয়াখালীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের সদস্য গ্রেফতার পর্নোগ্রাফি মামলায় ধরা পড়লেন মাওলানা মিরাজ আহমেদ চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল নেতার হামলায় একজন নিহত, কয়েকজন আহত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে ১৩ বছরের মাদ্রাসাত্রীকে যৌন নির্যাতন,মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিলে স্থানীয়রা ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তি করতে চায় সৌদি আরব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। নিখোঁজের ১০ দিন পর মিলল মা-মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনকে কারাদণ্ড দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলোনা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য কালামের বাকেরগঞ্জে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

ঝালকাঠির সেই বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবিরকে হাজীগঞ্জে ঘেরাও, বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা

এম,আর,কামরুল / ৬২ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬

ঝালকাঠির সেই বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবিরকে হাজীগঞ্জে ঘেরাও, বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা

ঝালকাঠি -২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমু ‘র পুত্র বলে দাবী কৃত নলছিটির সেই বিতর্কিত উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবিরকে হাজীগঞ্জে ঘেরাও, অবশেষে বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পেলেন। বর্তমান কর্মস্থল চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আবারও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল ঝালকাঠির নলছিটিতে সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ছত্র ছায়ায় থেকে স্থানীয় চাঁদাবাজদের সাথে হাত মিলিয়ে সরকারি কাজে অবহেলা, ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম, দুর্নীতি সহ মানুষ হয়রানির যে অভিযোগ উঠেছিল, তারই পুনরাবৃত্তি ঘটছে বর্তমান কর্মস্থলেও।
জানা গেছে, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবির প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রেখে একটি ঠিকাদার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যখন যা মনে করত তখন তাই করতো। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কেহ প্রতিবাদ করলে মামলা হামলার শিকার হতে হতো। তার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে রীতিমতো হয়রানি করতো। আর এর মদদ দাতা হিসেবে কাজ করতো সাবেক সংসার সদস্য আমির হোসেন আমু ও তার শালিকা মেরি বেগম। আর ইকবাল কবির ছিল স্থানীয় দের কাছে আমির হোসেন আমুর পুত্র বলে পরিচিত। স্থানীয় চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ও আমুর বদৌলতে সে সব সময় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে নিম্নমানের কাজ, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কমিশন বাণিজ্যের বরপুত্র ছিলেন। দুর্নীতিবাজ উপজেলা প্রকৌশালী ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে কেহ প্রতিবাদ করলে তার প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি সহ আর লালিত সন্ত্রাসীদের দ্বারা মামলা হামলার শিকারসহ নাজেহাল হতে হতো। ঘুষখোর ইকবাল কবিরের ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সম্প্রীতি ঝালকাঠিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর গণশুনানিতে মামুনুর রশীদ নোমানীর দেয়া অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় দুদক ইকবাল কবিরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে।বর্তমানে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। বিভিন্ন অভিযোগের কারনে দুর্নীতিবাজ ইকবাল কবিরকে নলছিটি থেকে স্টান্ড রিলিজ করে হাজীগঞ্জ উপজেলায় পাঠানো হয়।
২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর হাজীগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ উঠতে থাকে। স্থানীয়দের দাবি, এখানেও কিছু ঠিকাদারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের সুযোগ করে দিচ্ছেন। বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদার জানান, নির্মাণকাজ পেতে হলে নির্দিষ্ট সমঝোতা করতে হয়। অন্যথায় কাজ পাওয়া কিংবা বিল উত্তোলন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
গত বৃহস্পতিবার ২৩ এপ্রিল দুপুরে হাজিগঞ্জ উপজেলার ৬ নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলি গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণ কাজকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ধীরগতির কাজের প্রতিবাদে তারা দুর্নীতিবাজ এলজিইডি প্রকৌশলী ইকবাল কবির ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার নূরনবীকে ঘেরাও করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রকৌশলী ইকবাল কবির বাথরুমে আশ্রয় নেয়। কয়েক ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা উন্নয়ন চাই, কিন্তু নিম্নমানের কাজ মেনে নেব না। বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না। এত অভিযোগের পরেও দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী ইকবাল কবির বহাল তবিয়াতে। তাহলে তার খুঁটির জোর কোথায়? এত অপকর্ম অনিয়ম, দুর্নীতি করে সে পার পেয়ে যাচ্ছে। তাহলে তার মদদদাতাই বা কে?
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রকৌশলী ইকবাল কবিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
দুদকের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঝালকাঠির নলছিটিতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান। তবে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। হাজীগঞ্জে নতুন করে ওঠা অভিযোগ লিখিতভাবে পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এতসব অভিযোগের মাঝেও সম্প্রতি ইকবাল কবির পদোন্নতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে ‘জুন ক্লোজিং’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি হাজীগঞ্জেই দায়িত্ব পালন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে বারবার অভিযোগ উঠলেও ব্যবস্থা না নিলে জনআস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এলাকাবাসী আরো জানান, এত বড় দুর্নীতিবাজ উপজেলা প্রকৌশালী ইকবাল কবির পদোন্নতি তো দূরের কথা, চাকরিতে বহাল থাকে কিভাবে তাহা আমাদের বোধগম্য নহে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/