ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দায় ‘সরকার এড়াতে পারে না’ বলে মন্তব্য করেছেন তার ভাই শরীফ ওমর বিন হাদি।
তিনি বলেছেন, “জীবিত ওসমান হাদির চেয়ে শহীদ ওসমান হাদি অনেক গুণ শক্তিশালী হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসছে। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ ওসমান হাদির বিচারের অপেক্ষায় আছে।
“সরকারের কাছে আমি অনুরোধ করব, আপনারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যার দায় আপনারা এড়াতে পারবেন না, আপনাদেরও বিচার হবে। আজ হোক, ১০ বছর পরে হোক। বিচারের কাঠগড়ায় আপনাদের দাঁড়াতেই হবে।”
মঙ্গলবার বিকালে ঢাকার শাহবাগে ‘শহীদী শপথ’ নামে এক অনুষ্ঠানে কথা বলছিলেন ওমর হাদি।
হাদি হত্যাকাণ্ডের পর নির্বাচন বানচালের চেষ্টা চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আপনারা যদি মনে করেন, আর দুই মাস পরে রাষ্ট্রক্ষমতা থেকে চলে যাবেন, বিদেশে চলে যাবেন। মনে রাখবেন, এই দেশের জনতা আপনাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবেই।
“তাই সরকারকে অনুরোধ করব, দ্রুত খুনিদের আমাদের সামনে উপস্থাপন করুন। নির্বাচনের পরিবেশ যাতে বিঘ্ন না হয়। খুনির বিচার করুন। আপনারাই ওসমান হাদিকে হত্যা করিয়েছেন, আবার আপনারাই এটাকে ইস্যু করে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করতেছেন, তা আমরা কখনোই হতে দেব না।”
হাদির ভাই বলেন, “ওসমান হাদি বলেছিল ফেব্রুয়ারিতে দেশে নির্বাচন হতে হবে এবং সেই নির্বাচন করার জন্য সে প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছিল। কিন্তু তাকেই হত্যা করে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হচ্ছে।”
হত্যার ষষ্ঠ দিন পার হলেও সরকার ‘দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি উপস্থাপন করেনি’ অভিযোগ করে তিনি বলেন, “সরকারের কাছে একটাই দাবি জানাচ্ছি, শহীদ ওসমান হাদির গোটা খুনি চক্রকে জাতির সামনে উপস্থাপন করুন।
“একটা জিনিস মনে রাখবেন, বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের আগে যারা ক্ষমতাধর ছিলেন, যারা রাষ্ট্রকে নিজেদের মনে করতেন, তারা কিন্তু আজকে কেউ এই বাংলাদেশে নাই। তারা পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ওসমান হাদির বিচার যদি না হয়, আপনারাও একদিন বাংলাদেশ থেকে পালাতে বাধ্য হবেন।”
ওমর হাদি বলেন, “যে এজেন্সির হয়ে, যে রাষ্ট্রের হয়ে আপনারা ওসমান হাদিকে হত্যা করেছেন, মনে রাখবেন ওসমান হাদি কোনো এজেন্সি, কোনো রাষ্ট্র, কোনো তাঁবেদারের কাছে কখনই মাথা নত করে নাই। সে যদি মাথা নত করত, অন্যান্য বিক্রি হওয়া নেতার মতোই সে সুখে জীবনযাপন করতে পারত।
“কীভাবে রাজপথে আন্দোলন করতে হয়, কীভাবে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়, এজেন্সির রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে জনসাধারণের নেতা হতে হয়, ওসমান হাদি এটা আমাদের সামনে প্রমাণ করে গেছে।”
অনুষ্ঠানে ‘শহীদী শপথ’ পড়ান ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমাসহ অন্যান্য নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
https://slotbet.online/