বরিশালে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার জামিন মঞ্জুরকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে আইনজীবীদের মধ্যে। এর প্রতিবাদে বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি
আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে বরিশাল চীফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালত-এর কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেয়। ফলে দিনের শুরু থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে কার্যত অচলাবস্থা সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন শতাধিক বিচারপ্রার্থী।আইনজীবী সমিতির নেতারা অভিযোগ করেন, বিস্ফোরকসহ গুরুতর মামলায় সাধারণ আসামিদের জেলা জজ আদালত থেকে জামিন নিতে হলেও, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতারা নিম্ন আদালত থেকেই জামিন পাচ্ছেন, যা বিচারিক প্রক্রিয়ায় বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়।
বরিশাল জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু বলেন, যেখানে বিস্ফোরক মামলায় মানুষকে উচ্চতর আদালতে গিয়ে জামিন নিতে হচ্ছে, সেখানে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ নিম্ন আদালত থেকেই জামিন পাচ্ছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস আদালতে এসে জামিন নিয়ে চলে গেছেন। এতে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারকের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
সকাল থেকে আদালত কক্ষে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। অনেকেই নির্ধারিত শুনানিতে অংশ নিতে না পেরে হতাশা প্রকাশ করেন। কয়েকজন বিচারপ্রার্থী জানান, দিনের পর দিন তারিখ নিয়ে হাজিরা দিতে এসে এমন পরিস্থিতিতে পড়া তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর।
আইনজীবীদের কর্মসূচির কারণে জামিন শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণসহ একাধিক মামলার কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। এতে করে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিচারপ্রার্থীদের দাবি, বিচার বিভাগের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে চলমান সংকট দ্রুত সমাধান করা হোক। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান, যেন আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে আদালতের কার্যক্রম দ্রুত চালু করা হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারকদের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে এখন নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
https://slotbet.online/