• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল নেতার হামলায় একজন নিহত, কয়েকজন আহত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে ১৩ বছরের মাদ্রাসাত্রীকে যৌন নির্যাতন,মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিলে স্থানীয়রা ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তি করতে চায় সৌদি আরব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। নিখোঁজের ১০ দিন পর মিলল মা-মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনকে কারাদণ্ড দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলোনা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য কালামের বাকেরগঞ্জে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ঝালকাঠির সেই বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবিরকে হাজীগঞ্জে ঘেরাও, বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা বাকেরগঞ্জে ঔষধ চুরির অভিযোগে ফার্মাসিস্ট সাময়িক বরখাস্ত

পুলিশের নতুন পোশাক কেনাকাটায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ ১৪১ কোটি টাকার কাজ বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের হাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক / ১২০ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

পুলিশের নতুন পোশাক কেনাকাটায় অস্বচ্ছতার অভিযোগ

১৪১ কোটি টাকার কাজ বিতর্কিত প্রতিষ্ঠানের হাতে

নতুন ইউনিফর্ম নিয়ে বাহিনীর ভেতরেই চলছে হাসাহাসি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশ পুলিশের নতুন পোশাকের কাপড় সরবরাহের ১৪১ কোটি টাকার কার্যাদেশ নোমান গ্রুপকে দেওয়াকে ঘিরে অস্বচ্ছতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা বিচারাধীন থাকায় এই ক্রয় সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশাসন ও সাধারণ মহলে ব্যাপক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি পুলিশের নতুন ইউনিফর্মের জন্য কাপড় সরবরাহে দরপত্র আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্রের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছিল, যাতে একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানই বাড়তি সুবিধা পায়। এতে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হয় এবং শেষ পর্যন্ত নোমান গ্রুপ ১৪১ কোটি টাকার কাজ পায়।

অভিযোগ রয়েছে, বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে এই কাপড় কেনা হয়েছে। একই মানের কাপড় অন্যান্য সরকারি সংস্থায় কম দামে কেনা হলেও পুলিশের ক্ষেত্রে ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেশি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি। এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে অসন্তোষ, হাসাহাসিও

নতুন পোশাক মাঠপর্যায়ে ব্যবহার শুরুর পর এর ডিজাইন, কাপড়ের মান ও ফিটিং নিয়ে বাহিনীর ভেতর থেকেই অসন্তোষের কথা উঠে এসেছে। একাধিক ইউনিটের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই পোশাকে আরাম কম, নকশাও মানসম্মত নয়। এমনকি নতুন পোশাক নিয়ে পুলিশের ভেতরেই রসিকতা ও হাসাহাসি চলছে, যা বাহিনীর ভাবমূর্তির জন্য অস্বস্তিকর বলে তারা মনে করছেন।

দর মূল্যায়নেও প্রশ্ন

ক্রয় প্রক্রিয়ায় যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা জানান, কারিগরি ও আর্থিক দর মূল্যায়নের সময় সব প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব সমানভাবে বিবেচিত হয়নি। দর মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিতর্কিত মালিকানা নিয়ে উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা বিচারাধীন, সেই প্রতিষ্ঠানকে এত বড় সরকারি কাজ দেওয়ার আগে বাড়তি যাচাই জরুরি ছিল। এ ক্ষেত্রে সেই সতর্কতা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে।

দুদকের পর্যবেক্ষণে বিষয়টি

দুর্নীতি দমন কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, নোমান গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন। পুলিশের পোশাক কেনা নিয়ে নতুন করে ওঠা অভিযোগগুলোর তথ্যও কমিশনের নজরে রয়েছে। যাচাই শেষে প্রয়োজন হলে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নীরব পুলিশ ও নোমান গ্রুপ

এ বিষয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নোমান গ্রুপের পক্ষ থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সুশাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুলিশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পোশাক সরবরাহে যদি স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হয়, তাহলে তা শুধু আর্থিক ক্ষতির বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার ওপর জনগণের আস্থাও ক্ষুণ্ন করে। তারা পুরো ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/