• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পটুয়াখালীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের সদস্য গ্রেফতার পর্নোগ্রাফি মামলায় ধরা পড়লেন মাওলানা মিরাজ আহমেদ চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল নেতার হামলায় একজন নিহত, কয়েকজন আহত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে ১৩ বছরের মাদ্রাসাত্রীকে যৌন নির্যাতন,মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিলে স্থানীয়রা ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তি করতে চায় সৌদি আরব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। নিখোঁজের ১০ দিন পর মিলল মা-মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনকে কারাদণ্ড দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলোনা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য কালামের বাকেরগঞ্জে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মোড় ঘোরানো আটটি ঘটনা

ডেস্ক রিপোর্ট / ২৫৪ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে রণাঙ্গনে লড়াইয়ের পাশপাশি রাজনৈতিক এবং কূটনীতিক অঙ্গনের নানা তৎপরতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

নয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের সময় রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক বিষয়গুলো মাঠের লড়াইকে প্রভাবিত করেছিল বলে ইতিহাসবিদরা মনে করেন।

যুদ্ধ চলাকালীন এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা বাংলাদেশের বিজয়কে তরান্বিত করেছিল। এছাড়া রণাঙ্গনে অজস্র লড়াই হয়েছে পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে।

মুক্তিযুদ্ধের অসংখ্য ঘটনার মধ্য থেকে আটটি ঘটনা বাছাই করা হয়েছে এ লেখায়। রাজনীতি, কূটনীতি ও রণাঙ্গনের এসব ঘটনা যেমন আলোচিত ছিল তেমনি প্রভাবও তৈরি করেছিল।

রাজনৈতিক পরিস্থিতির ডামাডোলে যে উত্তেজনা সত্তরের নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল, ২৫শে মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরোচিত গণহত্যা ও ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে তা বাংলার মানুষের স্বাধীনতা আন্দোলনে রূপ নেয়।

এসময় বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় লাভ করে বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে ঘটে যাওয়া তেমনই গুরুত্বপূর্ণ আটটি বিষয় তুলে ধরা হলো:

স্বাধীনতার ঘোষণা

সত্তরের নির্বাচনে জয়ের পরও ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া টালবাহানা করায় রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশই জটিল হয়ে উঠছিল।

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও জাতীয় পরিষদ অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণার প্রতিবাদে শেখ মুজিবের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন।

সাতই মার্চ সে সময়ের রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে শেখ মুজিবের ভাষণের পর সমীকরণ আরও জটিল হয়ে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেয় পশ্চিম পাকিস্তান। অসহযোগ আন্দোলন দমন ও পাকিস্তান সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২৫শে মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইট’ পরিচালনা করে পাকিস্তানি সেনারা।

আর এই অপারেশন সফল করতে চালানো হয় নির্বিচার গণহত্যা। বলা হয়, সেই অভিযানে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়।

গ্রেফতারের ঘটনার কয়েক ঘন্টা আগে রাত ন’টার দিকে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে শেষ দেখা করে বিদায় নিয়েছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ, ড. কামাল হোসেন এবং আমীর-উল ইসলাম।

ড. হোসেন ২০২১ সালে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তারা সেসময় নিরাপদ জায়গায় গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ পেয়েছিলেন। তাদের বিদায় দেবার সময় শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন তিনি থেকে যাচ্ছেন অন্য এক হিসাব থেকে, বলেন ড. কামাল হোসেন।

“বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, দেখ, আমার সারা জীবনে আমি ঘন ঘন অ্যারেস্ট হয়েছি। আমি জানি আমাকে ধরলে হয়ত তাদের আক্রমণের তীব্রতা অন্তত কিছুটা কমবে। আর আমাকে যদি না পায়, তাহলে প্রতিশোধ নেবে তারা এলোপাথাড়ি আরও লোক মেরে।”

শেখ মুজিবুর রহমান

ছবির উৎস,Getty Images

ছবির ক্যাপশান,বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বিবিসি বাংলাকে সাক্ষাৎকার দেবার সময় তোলা ছবি।

সেই রাতেই ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে পাকিস্তানি বাহিনী শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। তাকে নিয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র তাদের সম্প্রচার শুরু করে ২৬শে মার্চ। তৎকালীন রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বেতারের চট্টগ্রামের কয়েকজন কর্মী শহর থেকে অনেকটা দূরে নিরাপদ জায়গা হিসাবে কালুরঘাটে বেতারেরই ছোট্ট একটি কেন্দ্রে তাদের প্রথম অনুষ্ঠান করেছিলেন।

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম সংগঠক বেলাল মোহম্মদ (২০১৩ সালে প্রয়াত) বিবিসি বাংলাকে বলেছিলেন, ওই অনুষ্ঠানেই স্বাধীনতার সেই ঘোষণা প্রথম সম্প্রচার করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছিলেন রাজনীতিকদের মধ্যে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ হান্নান।

কালুরঘাট কেন্দ্র থেকে ২৭শে মার্চ সন্ধ্যাতেও দ্বিতীয়বারের মত অনুষ্ঠান সম্প্রচারে সক্ষম হয় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। সেদিনের অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন জিয়াউর রহমান। সেসময় তিনি সেনাবাহিনীতে মেজর পদমর্যাদায় কর্মরত ছিলেন।

বেলাল মোহম্মদের (২০১৩ সালে প্রয়াত) ভাষ্য হচ্ছে , জিয়াউর রহমান ওই ঘোষণা পাঠ করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানের নামে।

মুজিব নগর সরকার গঠন

পঁচিশে মার্চ পাকিস্তানী বাহিনীর আক্রমণের সময় সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকে আত্মগোপনে চলে যান, যাদের বেশিরভাগই আশ্রয় নেয় ভারতে।

এর ৯দিন পর তেসরা এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে বৈঠক করেন তাজউদ্দীন আহমদ।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদের ২০১৮ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারে একটি লেখা প্রকাশিত হয়।

মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসী সরকারের নানা দিক উঠে আসে সেখানে উঠে আসে।

শপথ গ্রহণের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার দেয়ার হচ্ছে

ছবির উৎস,LIBERATIONWARMUSEUMBD

ছবির ক্যাপশান,শপথ গ্রহণের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে গার্ড অব অনার দেয়ার হচ্ছে

ইন্দিরা গান্ধীর সাথে তাজউদ্দীন আহমদের বৈঠকে একটি অস্থায়ী সরকার গঠন ও শপথ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয় বলে লেখাটিতে উল্লেখ করেন তিনি।

মূলত মুক্তিযুদ্ধে সারা বিশ্ব থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে এই সরকার গঠন করা হয়।

তবে আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ হয় ১৭ই এপ্রিল।মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় অস্থায়ী সরকারের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। এটিই পরে মুজিবনগর নামে পরিচিতি পায়।

শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে এই সরকার গঠন করা হয়।

এসময় কলকাতায় পাকিস্তানের উপ-দূতাবাসে উপ-হাইকমিশনার পদে ছিলেন বাঙালি অফিসার হোসেন আলী।

প্রবাসী সরকার গঠনের পরপরই হোসেন আলীর নেতৃত্বে উপ-দূতাবাসে কর্মরত প্রায় ৫০ জন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।

তিনি পাকিস্তানের উপ-দূতাবাসকে স্বাধীন বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনে রূপান্তরিত করেন।

কলকাতার সেই কূটনৈতিক অফিসটি ছিল বিদেশে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অফিস।

একে কূটনীতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঘটনা হিসেবে মনে করেন মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মুনতাসির মামুন।

“হোসেন আলী যখন পুরো উপকমিশন নিয়ে আনুগত্য ঘোষণা করলো, সেটা কূটনীতিক পাড়া-মহলে-বিশ্বে একটা বড় রকমের নাড়া দিয়েছিল এবং বাংলাদেশের ব্যাপারটি তখন কূটনীতিক এবং অন্যান্য যারা বহির্বিশ্বে কাজ করছেন তাদের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল”, বলেন তিনি।

এর আগে পূর্ব-পাকিস্তানে যুদ্ধ বিরতি সংক্রান্ত প্রস্তাব নিরাপত্তা পরিষদে বারবার নাকচ করে দিয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন।

আটই ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবের উপর ভোটাভুটি হয়।

নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকা জানিয়েছে, এই প্রস্তাবের পক্ষে ১০৪টি ভোট পড়েছিল এবং বিপক্ষে ছিল ১১টি ভোট।

তবে ভারত এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধ বিরতির কোন প্রস্তাব তারা মানবে না।

পনেরো ডিসেম্বর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো পোল্যান্ডের দেওয়া আত্মসমর্পণের প্রস্তাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখান।

এর আগে ১৪ই ডিসেম্বর ফ্রান্স এবং ইতালি নিরাপত্তা পরিষদে একটি যুদ্ধ বিরতির প্রস্তাব তোলে। কিন্তু ওই প্রস্তাবে শুধু পশ্চিম পাকিস্তানে যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল।

একই সাথে পোল্যান্ডের একটি খসড়া প্রস্তাবও আসে। ১৫ই ডিসেম্বর পোল্যান্ডের এই খসড়া প্রস্তাবটি আলোচনায় আসে নিরাপত্তা পরিষদে।

এতে পাকিস্তানি বাহিনীকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আত্মসমর্পণের প্রস্তাব দেয়। একইসঙ্গে, বাংলাদেশ সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করার কথা বলে।

ভারতের যুদ্ধ জড়ানো

১৯৭১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

ছবির উৎস,Getty Images

ছবির ক্যাপশান,১৯৭১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জয় আর পাকিস্তানের পরাজয়ের সবশেষ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ভারতের ওপর পাকিস্তানের আক্রমণ এবং ভারতের সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া।

ফলে প্রথম থেকে সতর্কতার সঙ্গে সমর্থন ও সহায়তা দিয়ে আসলেও প্রত্যক্ষভাবে বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামে মিত্রবাহিনী।

১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে দেয়া এক বিবৃতির মাধ্যমে ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেন।

এতে যুদ্ধের প্রকৃতি বদলে যায়।

ভারতীয়রা যুদ্ধে জড়িয়ে যাবার কয়েকদিনের মধ্যেই যশোর, খুলনা, নোয়াখালী অতিদ্রুত ভারতীয় এবং মুক্তিবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পাকিস্তানী বাহিনীর পরাজয় তখন শুধুই সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

“ভারত-বাংলাদেশ যৌথ ফ্রন্ট গঠন হয় পূর্বাংশে, পশ্চিমে ভারত প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে যার এবং পাকিস্তানের পরাজয় হয়, বলেন অধ্যাপক মামুন।

১৪ই ডিসেম্বর মধ্যে মিত্রবাহিনী ঢাকার কাছে পৌঁছে যায়।

অবশেষে ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিজয় লাভ করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/