চরমোনাই পীরের ইসলামী আন্দোলনসহ দুটি দলের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর টানাপোড়েন তৈরি হওয়ায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তাদের ১১ দলীয় জোট।
জামায়াতকে নিয়ে ‘অবিশ্বাস’ আর ‘সন্দেহের’ কথা এসেছে এই জোটে। ইসলামী আন্দোলনের নেতারা আলাদা জোট গঠনের ইঙ্গিতও দিচ্ছেন।
এই দলগুলো দুদিন ধরে দফায় দফায় বৈঠক করেও সমাধানে আসতে পারেনি। আসন সমঝোতার চূড়ান্ত অবস্থান জানাতে আগের নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনও স্থগিত করতে হয়েছে।
এমন পটভূমিতে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের জন্য আসন সমঝোতার ইস্যুতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট শেষপর্যন্ত ভেঙে যাবে নাকি টিকে থাকবে, এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। এই জোটে কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তাদের সংকট কোথায়-এসব প্রশ্নও রয়েছে আলোচনায়।
যদিও জামায়াত নেতারা বলছেন, শেষমুহূর্ত পর্যন্ত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে জোট টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কিন্তু যখন অবিশ্বাস বা সন্দেহ তৈরি হয়, তখন সংকট গভীরে চলে গেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
‘ওয়ান বক্স পলিসি’ অর্থাৎ ইসলামী দলগুলোর এক বাক্সে ভোট–– এই স্লোগান নিয়ে জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি ইসলামী দল আসন সমঝোতার মোর্চা গঠন করে যাত্রা শুরু করেছিল নয় মাস আগে।
নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ ও সংস্কার বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনেও নেমেছিল ওই মোর্চা। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে আন্দোলন থেকে সরে এসে তারা তৎপর হয় আসন সমঝোতায়।
এরই মধ্যে সরাসরি ধর্মভিত্তিক দল নয়, এমন তিনটি দল আসন ভাগাভাগিতে যোগ দিলে মোর্চাটিকে ১১ দলের আসন সমঝোতার জোটে রূপ দেওয়ার তৎপরতা শুরু হয়। তখন ইসলামী দলগুলোর এক বাক্সে ভোট–– এই স্লোগান সেভাবে সামনে আনা হয়নি।
অবশ্য ১১ দলের এই ঐক্য আসলে একটি জোট, নাকি আসন ভাগাভাগির একটি প্ল্যাটফর্ম, তাদের ভেতরেই এমন প্রশ্নও উঠেছে।
এখন সেই ১১ দলের আসন সমঝোতা নিয়েই বিভেদ বেড়েছে, সংকটে পড়েছে তাদের ঐক্য।
ওই দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য আছে। এরপরও তাদের ঐক্যের চেষ্টা ছিল।
তবে এখন আসলে ঐক্য গভীর সংকটে পড়েছে বলেই বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

১১দলের আসন সমঝোতার জোট টিকিয়ে রাখার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামী ও খেলাফত মজলিসের দুই অংশই বেশ তৎপর রয়েছে।
দুদিন ধরে দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করা হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বিবিসিকে বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা চলমান।
আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হবে এবং তাদের ঐক্য বহাল থাকবে বলে তারা বিশ্বাস করেন।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০শে জানুয়ারি।
এই সময়ের আগেই সব দল ও জোটকে তাদের আসন ভাগাভাগি বা সমঝোতার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বিবিসিকে বলেছেন, তারা ১১ দলের নির্বাচনী সমঝোতার জোট টিকিয়ে রাখতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। দু’একদিনের মধ্যেই সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন।
দলটির মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদও একই মন্তব্য করেছেন।
তবে ওই জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছে ইসলামী আন্দোলন। এরই মধ্যে তারা তাদের সারা দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেছে।
দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বিবিসিকে জানান, তাদের সারাদেশের নেতা-কর্মীরা জামায়াতের কাছে অপমান, অবহেলার শিকার হচ্ছেন। ফলে তাদের তৃণমূল ক্ষুব্ধ।
ইসলামী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, “আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় তো আমরা আছি। এখানে কেউ যদি আমাদের প্রতি কোনো অবিচার করে বা কেউ যদি অসম্মান করে, অবহেলা করে তাহলে সেটাকে আমরা স্বাভাবিকভাবে তো নিতে পারি না। আত্মসম্মানবোধ তো সবারই আছে। তাই না?”
এই বক্তব্যে ভিন্ন চিন্তার ইঙ্গিত আছে বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন।
শেষপর্যন্ত ১১ দলের ঐক্য টিকবে কি না, তা দু’একদিনের মধ্যে স্পষ্ট হবে বলে বলা হচ্ছে।
বিশ্লেষক শরীফ মুহাম্মদ বলছেন, এই জোট টিকিয়ে রাখার জোর চেষ্টা আছে। তবে অবিশ্বাস, সন্দেহ তৈরি হয়েছে; একটা ফাটল ধরেছে। যদি জোট টিকে যায়, এরপরও ঐক্যে আন্তরিকতা ও আস্থা কতটা থাকবে সেই সন্দেহ রয়েছে।
https://slotbet.online/