• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ০১:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
পটুয়াখালীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের সদস্য গ্রেফতার পর্নোগ্রাফি মামলায় ধরা পড়লেন মাওলানা মিরাজ আহমেদ চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল নেতার হামলায় একজন নিহত, কয়েকজন আহত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে ১৩ বছরের মাদ্রাসাত্রীকে যৌন নির্যাতন,মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিলে স্থানীয়রা ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তি করতে চায় সৌদি আরব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। নিখোঁজের ১০ দিন পর মিলল মা-মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনকে কারাদণ্ড দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলোনা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য কালামের বাকেরগঞ্জে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হলো না কেন?

পথিক / ১২৮ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বাংলাদেশে আসা ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। কথা হচ্ছে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো শোকবার্তার বক্তব্য নিয়েও।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের মৃত্যুতে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সংক্ষিপ্ত সফরে বাংলাদেশে এসেছিলেন বেশ কয়েকটি দেশের সরকারের প্রতিনিধিরা।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ছাড়াও পাকিস্তান পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক, ভুটানের পররাষ্ট্র ও বৈদেশিক বাণিজ্যমন্ত্রী লিয়নপো ডি. এন. ধুংগেল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ এবং মালদ্বীপের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী আলী হায়দার আহমেদ বাংলাদেশে এসেছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, সফররত এই নেতাদের মধ্যে পাকিস্তানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ হয়েছে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের।

তবে সাক্ষাৎ হয়নি ভারত, ভূটান, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপের প্রতিনিধিদের সঙ্গে। অন্য দেশগুলো নিয়ে তেমন আলোচনা না হলেও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ সামনে আসছে।

এছাড়া, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে শোকবার্তা দিয়েছেন সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব নিয়ে দেওয়া বক্তব্যেরও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের প্রতি সম্মান জানাতে ভারত সরকারের উচ্চপদস্থ একজনের বাংলাদেশে আসা এবং দেশটির সরকারের দেওয়া শোকবার্তার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত তাদের অবস্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে বলেই মনে করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের অনেকে।

তবে তারা এটাও মনে করছেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক দূরত্বের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে এর মধ্য দিয়ে।

বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, “গত দেড় বছর ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইমোশন বুঝতে যে ভারত ভুল করেছিল, এটা তারই একটা ডেমন্সট্রেশন যে তারা ফাইনালি এটা বুঝতে পেরেছে।”

তবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা না হওয়ার বিষয়টি নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই বলেই মনে করেন মিজ ইয়াসমিন।

তিনি বলছেন, “প্রধান উপদেষ্টা কেন দেখা করেননি এটা অনুমান করা যেতে পারে, হয়তো সময়ের বিষয় ছিল। এছাড়া জয়শঙ্কর উনি কার কার সঙ্গে দেখা করেছেন, তারও সময় ছিল কি না, দুই দিক থেকে দেখতে হবে।”

তবে এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সুসম্পর্ক না থাকার বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়েছে বলেই মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ।

মি. আহমেদের মতে, ভারত যে বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সুসম্পর্ক রাখতে চায় সেটিও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে নয়াদিল্লি বোঝাতে চেয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক না হওয়ার কারণ হিসেবে এই বিশ্লেষক মনে করেন, ভবিষ্যতের দিকেই নজর দিয়েছে ভারত।

অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো দেশই নতুন করে বাড়তি আলোচনা চাইছে না বলেও মনে করেন মি. আহমেদ।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছেন, বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তীকালীর সরকারের হাতে যে সময় আছে সেটি দুই দেশের সম্পর্ক ঠিক করার জন্য যথেষ্ট নয়।

“জয়শঙ্কর হয়তো দেখা করতে চায়নি, বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও হয়তো আগ্রহ দেখানো হয়নি। যে কাজের জন্য তিনি এসেছিলেন সেটি করে উনি চলে গেছেন, এ নিয়ে বেশি চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই” বলেন তিনি।

সম্পর্কের ইতিবাচক ইঙ্গিত কি না

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের নেতাদের উপস্থিতি আঞ্চলিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের গুরুত্ব আবারও স্পষ্ট করেছে বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

তবে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর পার্শবর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যে শীতল সম্পর্ক চলছে সেটি খুব শিগগিরই যে আগের অবস্থায় ফিরছে না সেটিও মনে করেন তারা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পাঠানো শোকবার্তাটি ভূ-রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই বার্তার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দিতে চেয়েছে বলেও মনে করেন তারা।

তারেক রহমানের সঙ্গে মি. জয়শঙ্করের বৈঠক এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক না করাকে অনেক বিশ্লেষক “ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রস্তুতি” হিসেবে দেখছেন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলছেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারে এমন ধারণা থেকেই হয়তো দলটির সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে চাইছে ভারত।

“এখন তাদের হাতে অন্য অপশনও নাই, বিএনপিই এই মুহূর্তে ভারতের নম্বর ওয়ান অপশন,” বলেন তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির সঙ্গে ভারতের এক ধরনের ‘দূরত্ব’ বা ‘অবিশ্বাস’ ছিল।

তবে, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা প্রমাণ করে যে, ভারত এখন বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে এবং রাজনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহী।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের যে কিছুটা ‘শীতল’ সম্পর্ক বিরাজ করছে, শোক প্রকাশের এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে ভারত সেই অস্বস্তি কাটানোর চেষ্টা করেছে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।

খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারত সরকার যে শোক বার্তা দিয়েছেন সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করা হয়েছে।

এছাড়া ভারতের বার্তায় বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

খালেদা জিয়ার মতো একজন বর্ষীয়ান নেত্রীকে সম্মান জানিয়ে ভারত মূলত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে তাদের সম্পৃক্ততা ও বন্ধুত্বের হাত প্রসারিত রাখারও বার্তা দিয়েছে।

বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে আপনার (তারেক রহমান) দক্ষ নেতৃত্বে তার (খালেদা জিয়া) আদর্শ এগিয়ে নেওয়া হবে এবং ভারত ও বাংলাদেশের গভীর ও ঐতিহাসিক অংশীদারত্বকে আরও সমৃদ্ধ করতে তা পথনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে- নতুন সূচনা নিশ্চিত করবে।”

এই অংশটিতে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তাদের কেউ কেউ বলছেন, মোদির এই বার্তাটি মূলত “অতীত ভুলে ভবিষ্যতের দিকে তাকানো” এবং বাংলাদেশের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধান রাজনৈতিক শক্তির সাথে কাজ করার আগ্রহের প্রকাশ।

যদিও এই বার্তাকে কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে খুব বেশি আলাদা করে দেখছেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক লাইলুফার ইয়াসমিন।

তিনি বলছেন, “যেকোনো দলে নেতাকে যখন একটি বার্তা দেওয়া হয় তখন, তার নেতৃত্বে শব্দটিই ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তার মানে এই না যে উনি (নরেন্দ্র মোদি) বলেছেন যে বিএনপি ইলেকশনে জিতবে। এর অর্থ এতো সোজাসাপ্টা ভাবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/