• শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গ্যাস সংকটের নেপথ্যে ড: ইউনূস ও পিটার হাসের কোম্পানির ষড়যন্ত্র সাইবার মামলায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী কর্মকর্তা কারাগারে সংসদ নির্বাচনে নারী ভোটারদের উপর নির্ভর করছে প্রার্থীদের জয়-পরাজয় পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি – ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’ সতের মাসে ৬ হাজার নিখোঁজ, রাষ্ট্র নীরব, প্রশ্নের মুখে ড. ইউনুসের শাসন দেড় বছরেও উদ্ধার হয়নি লুট হওয়া হাজারের বেশি অস্ত্র, দুই লাখ গোলাবারুদ। নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত শেখ হাসিনা, অভিযোগের ভিত্তি নেই: জাতীয় কমিটির রিপোর্ট মিরসরাইয়ে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গায় হবে প্রতিরক্ষা শিল্প পার্ক জামায়াতের মেহেরপুর জেলা আমিরের গাড়ি থেকে ‘অস্ত্র’সহ আটক ৩ ডাকসু ‘মাদকের আড্ডা ও বেশ্যাখানা ছিল’ জামায়াত নেতার বক্তব্যের নিন্দা ঢাবি শিক্ষার্থীদের।

যেভাবে হয়েছিল মহানবি (সা.)-এর কাফন ও দাফন

প্রতিনিধি / ২২৫ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫

মহানবি (সা.)-এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম (রা.) সীমাহীন ব্যথার ভারে মূহ্যমান হয়ে যান। তাঁদের অনেকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন যে নবীজি (সা.) দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। ব্যথার ভার তাদেরকে অনেকটাই নিশ্চল করে দিয়েছিল। ফলে শোক ও ব্যথার ঘোরে কেটে গেল তাদের অনেকটা সময়। এরপর শুরু হলো নবীজি (সা.)-এর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন তা নিয়ে।

 

এ বিষয়ে প্রত্যেকেই নিজ নিজ মতের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলেন। অবশেষে আবু বকর (রা.)-এর নেতৃত্বের ব্যাপারে ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হলো। এতেও কিছু সময় ক্ষেপন হলো। এই অবস্থায় সোমবার দিবাগত রাত অতিবাহিত হয়ে মঙ্গলবার সকালের আগমন ঘটে। এ সময় পর্যন্ত নবীজি (সা.)-এর পবিত্র দেহ মোবারক একটি জরিদার ইয়েমেনি চাদর দ্বারা আবৃত ছিল। তিনি নিজ বিছানায় শায়িত ছিলেন। ঘরটি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখা ছিল।

মঙ্গলবার দিনে রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে কাপড়সহ গোসল দেওয়া হলো। গোসল দেওয়ার কাজে অংশ গ্রহণ করলেন আব্বাস (রা.), আলী (রা.), আব্বাস (রা.)-এর ছেলে ফজল ও কাশেম (রা.)। তাদের সঙ্গে ছিলেন রাসুলে আকরাম (সা.)-এর আজাদকৃত দাস শাকরান, উসামা বিন জায়েদ ও আউস বিন খাওলি (রা.)। আব্বাস, ফজল ও কাশেম (রা.) নবীজি (সা.)-এর পাশ পরিবর্তন করে দিচ্ছেলেন। উসামা এবং শাকরান (রা.) পানি ঢেলে দিচ্ছিলেন, আলী (রা.) ধৌত করছিলেন এবং আউস (রা.) নবী কারিম (সা.)-এর দেহ মোবারককে আপন বক্ষের ওপর ভর করে নিয়ে রেখেছিলেন।

রাসুলুল্লাহকে তিনবার কুল পাতার মিশ্রিত পানি দ্বারা গোসল দেওয়া হয়। কুবায় অবস্থিত ‘গারস’ নামক কূপের পানি দিয়ে তাঁকে গোসল দেওয়া হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই কূপের পানি পান করতেন। গোসলের পর তিনটি কুরসুফ হতে তৈরী সাদা ইয়েমেনি চাদর দ্বারা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাফনের ব্যবস্থা করা হলো। এসবের মধ্যে জামা কিংবা পাগড়ি ছিল না।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্তিম শয্যা কোথায় হবে তা নিয়ে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর ভেতর মতভিন্নতা ছিল। কিন্তু আবু বকর (রা.) বললেন, ‘আমি নবীজি (সা.)-কে বলতে শুনেছি যে, ‘কোনো নবীকে (পৃথিবী) থেকে উঠানো হয়নি (মৃত্যুবরণ করেননি) তাঁকে সেই স্থানে দাফন করা ছাড়া যেখানে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।’ এই মীমাংসার পর নবীয়ে আকরাম (সা.) যে বিছানায় মৃত্যুবরণ করেছিলেন আবু তালহা (রা.) তা উঠিয়ে নিলেন। অতঃপর তার নীচে বগলি কবর খনন করা হলো।

এরপর সাহাবায়ে কেরাম (রা.) পালাক্রমে ১০ জন করে ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে জানাজা আদায় করলেন। তাঁর জানাজার নামাজে নির্ধারিত কোনো ইমাম ছিল না। সর্বপ্রথম নবীজি (সা.)-এর পরিবার বনু হাশিমের লোকেরা জানাজা আদায় করেন। এরপর ক্রমান্বয়ে মুহাজির ও আনসাররা জানাজা নামাজ আদায় করেন। অতঃপর ক্রমান্বয়ে অন্যান্য পুরুষ, মহিলা ও শিশুরা নামাজ আদায় করেন।

Copied from: https://rtvonline.com/

জানাজার নামাজে আদায় করতে মঙ্গলবার দিবস পুরোটাই অতিবাহিত হয়ে যায়। মঙ্গলবার দিবস অতিবাহিত হওয়ার পর বুধবার রাতে নবী কারিম (সা.)-এর দেহ মোবারক সমাহিত করা হয়। আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেছেন যে, পুরো দিনটিই জানাজার নামাজ চলার কারণে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দাফন সম্পর্কে আমাদের জানা ছিল না। এভাবে সময় অতিবাহিত হতে থাকার পর বুধবার রাতের মধ্যভাগে দাফন-কাফনের শব্দ কানে আসে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/