• মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
সমকামিতার অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির বৈঠক চলাকালেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ পরপর দু’টি বোমা উদ্ধারের মধ্যেই পুলিশের সতর্কতা জারি, পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক? বাকেরগঞ্জে ট্রাক থামিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ জাতিসংঘের নিহতের তালিকায় পাবনার রাফির নাম, ভিডিও বার্তায় নিজেকে জীবিত দাবি মির্জাগঞ্জে আওয়ামিলীগ নেতার বাড়ি ভেংগে দিলেন সংসদ আলতাফ হোসেন চৌধুরী মালয়েশিয়া যেতে আগাম লেনদেন ও মেডিকেল টেস্ট নিয়ে সতর্কবার্তা পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে পিলারের নিচে মাটি কেটে নেওয়ার পর এবার যন্ত্রাংশ চুরির মহোৎসব, দুর্ঘটনার শঙ্কা হোলি আর্টিজানের এক দশক, বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা বেড়েছে নাকি কমেছে? সাইপ্রাসের লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে সেনজেন সদস্যপদ বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে করিডোরের প্রস্তাব চীনের

২৬ লাখ ভারতীয়’ বহাল রেখেই কি বিদায় নিচ্ছেন আসিফ নজরুল?

পথিক,সময় ডটকম / ২৩১ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

‘‘২৬ লাখ ভারতীয়’ বহাল রেখেই কি বিদায় নিচ্ছেন আসিফ নজরুল?

 

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামীতে নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায় তাঁর থাকার কোনো সুযোগ নেই। গত রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। তবে তাঁর এই বিদায়ের বার্তা সামনে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশে কর্মরত কথিত ‘২৬ লাখ ভারতীয়’ নাগরিকের বিষয়টি সুরাহা না করেই তিনি দায়িত্ব শেষ করছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল বাংলাদেশে অবৈধভাবে কর্মরত বিদেশি, বিশেষ করে ভারতীয় নাগরিকদের বিষয়টি। আইন উপদেষ্টা হিসেবে ড. আসিফ নজরুলের বিদায়ের ঘোষণার পর সেই প্রসঙ্গটিই নতুন করে সামনে এল।

আগামী সরকারে থাকার সুযোগ নেই
সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘আগামী মন্ত্রিসভায় আমার থাকার প্রশ্নই আসে না।’ তিনি আরও জানান, প্রচলিত নিয়ম মেনেই নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ও ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। উপদেষ্টার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তাঁর দায়িত্ব পালনের শেষ সময়ের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

নির্বাচন ও পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে যখন আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই তাঁর সরে দাঁড়ানোর এই আগাম বার্তা মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।

আলোচনায় ‘২৬ লাখ ভারতীয়’ ইস্যু
সরকার পতনের আগে ও পরে বিভিন্ন সভা-সেমিনার এবং টক শোতে ড. আসিফ নজরুলসহ অনেকেই অভিযোগ করেছিলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রায় ২৬ লাখ ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত ও এনজিওতে কাজ করছেন। অভিযোগ ছিল, এতে দেশের বিপুলসংখ্যক মেধাবী তরুণ বেকার থাকছেন এবং দেশ থেকে বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স ভারতে চলে যাচ্ছে।

সে সময় সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে অবৈধভাবে কর্মরত এসব বিদেশি নাগরিকের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু সরকারের মেয়াদের শেষ দিকে এসে যখন আসিফ নজরুল পরবর্তী সরকারে না থাকার ঘোষণা দিলেন, তখন সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার হতাশা ব্যক্ত করছেন অনেকে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। নেটিজেনদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন, ২৬ লাখ ভারতীয় নাগরিককে ছাঁটাই বা তাদের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিয়েই কি উপদেষ্টারা বিদায় নিচ্ছেন?

আবদুল্লাহ আল মামুন নামের এক ব্যবহারকারী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘যে ২৬ লাখ ভারতীয়র দোহাই দিয়ে আন্দোলন বেগবান হয়েছিল, তাদের চাকরিতে বহাল রেখেই বিদায় নিচ্ছেন উপদেষ্টা। এটি কি প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ নয়?’

গত দেড় বছরে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে অবৈধ বিদেশিদের বিষয়ে মাঝে মাঝে সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও, কথিত ‘২৬ লাখ’ ভারতীয়র বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান বা বড় ধরনের কোনো অভিযানের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভিসানীতি কড়াকড়ির কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে এর দৃশ্যমান প্রভাব নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা রয়েই গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আসিফ নজরুলের পরবর্তী সরকারে না থাকার সিদ্ধান্ত তাঁর ব্যক্তিগত ও নীতিগত অবস্থান। তবে ভারতীয় কর্মীদের বিষয়টি যেহেতু আন্দোলনের সময় একটি ‘পলিটিক্যাল ন্যারেটিভ’ বা রাজনৈতিক বয়ান হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল, তাই ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে এ বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করা জরুরি বলে মনে করছেন তাঁরা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/