ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘শক্তিশালী’ নিরাপত্ন্তা গ্যারান্টির ফলে যুক্তরাষ্ট্র একটি বহুজাতিক ইউরোপীয় বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি একটি যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেবে। ম্যাক্রোঁ আরও বলেন, প্যারিস কিয়েভে ‘কয়েক হাজার’ সেনা পাঠাতে পারে।
এই ঘোষণাকে ‘বড় অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করে জেলেনস্কি বলেন, ভূমিতে, আকাশে, সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোন কোন দেশ কোন কোন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে এবং পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। কী ধরনের ও কতগুলো বাহিনী প্রয়োজন, সেটাও ঠিক করা হয়েছে। পাশাপাশি এসব বাহিনী কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কোন স্তরে সেখানে কমান্ড থাকবে, তাও নির্ধারিত হয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রতিদিন লক্ষ্য কাছাকাছি এলেও যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে যথেষ্ট বলা যাবে না। শান্তিপূর্ণ সমাধানে এগিয়ে আসা সব দেশ ও নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান জেলেনস্কি।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেন, বৈঠকে ‘চমৎকার অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনের পথ আরও কঠিন। ইউক্রেনের ওপর রাশিয়ার আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, রাশিয়া যদি আপস করে তবেই শান্তি সম্ভব।
মার্কিন প্রতিনিধি এবং রাশিয়ার সাথে আলোচনার নেতৃত্ব দেয়া উইটকফ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘নিরাপত্তা গ্যারান্টির পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন’। এই গ্যারান্টিগুলো ‘গুরুত্বপূর্ণ, যাতে ইউক্রেনের জনগণ জানতে পারে যে যখন যুদ্ধ শেষ হবে, তখন তা চিরতরে হবে’।
ট্রাম্প জামাতা কুশনার প্যারিস বৈঠককে ‘একটি অনেক বড় মাইলফলক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, যদি ইউক্রেনীয়রা একটি চূড়ান্ত চুক্তি করতে চায়, ‘তাদের জানতে হবে যে চুক্তির পর তারা নিরাপদ, তাদের কাছে স্পষ্টতই একটি শক্তিশালী প্রতিরোধ ব্যবস্থা রয়েছে এবং এই [রাশিয়ান আক্রমণ] যাতে আবার না ঘটে তা নিশ্চিত করার জন্য প্রকৃত নিশ্চয়তা রয়েছে’।
শান্তি আলোচনার মধ্যেই হামলা পাল্টা হামলা
এদিকে শান্তি আলোচনার মধ্যেই হামলা পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের জাপোরিজঝিয়া ও দোনেৎস্কে রুশ ড্রোন হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন। জবাবে রাশিয়ার কস্ত্রোমার অস্ত্রভাণ্ডার এবং লিপেৎস্কে তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া ও দোনেৎস্কে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। একরাতেই ৬১টি ড্রোন ছোড়ে মস্কো। এর মধ্যে ৫৩টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি করে কিয়েভ। এ ঘটনায় স্থানীয় নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যসহ বেশ কয়েকজন হতাহত হন। এদিকে খেরসনের আবাসিক ভবনে বিমান হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এর জবাবে রাশিয়ার ভেতরে হামলা জোরদার করেছে ইউক্রেন। কস্ত্রোমায় ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ ভাণ্ডার এবং লিপেৎস্কে তেল ডিপোতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে কিয়েভ। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন হতাহত হয়েছেন। ইউক্রেনের এ হামলার পর রুশ সামরিক সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছে স্থানীয় কতৃপক্ষ।