• সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ০১:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম
চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল নেতার হামলায় একজন নিহত, কয়েকজন আহত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে ১৩ বছরের মাদ্রাসাত্রীকে যৌন নির্যাতন,মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিলে স্থানীয়রা ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তি করতে চায় সৌদি আরব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। নিখোঁজের ১০ দিন পর মিলল মা-মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনকে কারাদণ্ড দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলোনা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য কালামের বাকেরগঞ্জে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ঝালকাঠির সেই বিতর্কিত দুর্নীতিবাজ উপজেলা প্রকৌশলী ইকবাল কবিরকে হাজীগঞ্জে ঘেরাও, বাথরুমে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা বাকেরগঞ্জে ঔষধ চুরির অভিযোগে ফার্মাসিস্ট সাময়িক বরখাস্ত

সমালোচনা করা যাবে না- এই বার্তাই কি দেওয়া হলো আনিস আলমগীরের ঘটনায়

পথিক / ১৭২ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশের একজন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে রাতভর ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে আটক রাখার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

সোমবার বিকালে আদালতে হাজিরের পর আনিস আলমগীরকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আগে তাদের বিরুদ্ধে থানায় যে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে তাতে, সামাজিক মাধ্যম ও টকশোতে বসে ‘আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার প্রোপাগান্ডা চালানোর’ অভিযোগ আনা হয়েছে।

মি. আলমগীর সাম্প্রতিক সময়ে টেলিভিশন টকশো ও সামাজিক মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করে আলোচনায় এসেছিলেন।

ফলে তাকে গ্রেফতার করায় প্রশ্ন উঠছে, ‘সরকারের সমালোচনা’ করা গ্রহণ করা হবে না, এমন বার্তাই এই গ্রেফতারের মাধ্যমে দেওয়া হলো কিনা।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভয়ের সংস্কৃতি গড়ে তোলার যে অভিযোগ উঠেছিল, এখন আবার সেই ভয়ের সংস্কৃতিই ফিরে এসেছে কিনা সেই প্রশ্নও উঠছে।

এই গ্রেফতারের ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র। এ ধরনের গ্রেফতার ‘ভিন্নমত দমনের একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে,’ বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশের ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী বাংলাদেশের গণমাধ্যম পরিস্থিতি’ নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবি।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ডঃ ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, “যে যুক্তিতেই (মি.আলমগীরকে) আটক করা হোক না কেন এটি প্রশ্নবিদ্ধ। সরকার ভুল বার্তা দিচ্ছে”।

“মুক্ত গণমাধ্যম, বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমত দমনে অব‍্যাহত বলপ্রয়োগ, আইনের অপপ্রয়োগ ও রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতার অপব্যবহারের দায় অন্তর্বর্তী সরকার কোনোভাবেই এড়াতে পারেনা”, সময় ডট কম কে  তিনি বলেছেন।

অন্যদিকে পরিস্থিতিকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যায়িত করে দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী সময় ডট কম কে বাংলাকে বলেছেন, চব্বিশের পরিবর্তনের পরে এমন পরিস্থিতি তিনি আশা করেননি।

“আশা করেছিলাম মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে। স্বাধীনতার নামে হঠকারিতা যেন না করি তাও খেয়াল রাখতে হবে। তবে এসব ঘটনা আমাকে আতঙ্কিত করে। কেন জানি মনে হয় আগের পরিস্থিতিতির দিকেই যাচ্ছি আমরা। আমার মনে হয় সরকার প্রধান দৃষ্টি না দিলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে,” বলছিলেন মি. চৌধুরী।

এই গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে সম্পাদক পরিষদ বলেছে, ”এ ধরনের আচরণ অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলে সাংবাদিকদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের স্মৃতি উসকে দেয়”। একজন সাংবাদিককে অভিযোগ ছাড়াই ডিবি কার্যালয়ে ডেকে নেওয়া, সেখানে আটকে রাখা, পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেফতার দেখানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/