পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার ১নং মাধবখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী মিজানুর রহমান (লাভলু) ও কাজী মশিউর রহমান বাবলুর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
অভিযোগকারীদের দাবি, সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরীর নির্দেশে একদল লোক তাদের বাড়িতে হামলা চালানোর চেষ্টা করে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও একাধিকবার বাড়ি ভাঙার পরিকল্পনা করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
তাদের অভিযোগ, সর্বশেষ ঘটনায় একটি ভেকু (এক্সকাভেটর) এনে বাড়ি ভাঙার চেষ্টা করা হয়। তবে যন্ত্রটি বিকল হয়ে যাওয়ায় সেদিন ভাঙার কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরে বিএনপির নেতা শাহিন চৌধুরী, পলাশ হালদার, মনির খন্দকার, সুমন তালুকদার (টুনু), মহাসিন মেম্বার, ছাত্রদল সভাপতি প্রার্থী মিরাজসহ আরও কয়েকজনের নেতৃত্বে রাতভর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভাঙচুরের পর ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র লুট করা হয় এবং পরে বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, স্টিলের আলমারিতে সংরক্ষিত পরিবারের স্বর্ণালংকার, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, ফ্রিজসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী কয়েকটি ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
কাজী মশিউর রহমান বাবলু দাবি করেন, বাড়িটি এমনভাবে ধ্বংস করা হয়েছে যা তাঁর ভাষায় “যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার ধ্বংসযজ্ঞের মতো”। তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এ ঘটনার পর কাজী মশিউর রহমান বাবলু ব্যক্তিগত ফেসবুক লাইভে এসে ঘটনার বর্ণনা দেন এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, এ বিষয়ে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগতভাবে হয়রানি এবং তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই তাঁর নাম এ ঘটনায় জড়ানো হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
https://slotbet.online/