তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গ
প্রধান উপদেষ্টা কে?
রাজনীতিতে চাপা গুঞ্জন
বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলে দেশে নতুন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের আলোচনা জোরালো হতে পারে—এমন চাপা গুঞ্জন রাজনৈতিক অঙ্গনে শোনা যাচ্ছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে একটি গ্রহণযোগ্য ও সর্বদলীয় ব্যবস্থার দাবি আবার সামনে আসছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক ও বেসরকারি সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকের নাম আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে অধ্যাপক রেহমান সোবহান, মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল এবং অর্থনীতিবিদ হোসেন জিল্লুর রহমানের নাম ঘুরে ফিরে আসছে। গুঞ্জন রয়েছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐক্যমত তৈরির চেষ্টা হলে এসব নাম প্রস্তাবের তালিকায় থাকতে পারে।
সূত্রগুলো বলছে, বিএনপি ও জামায়াত এই তিনজনকে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য, সিভিল সোসাইটি ঘনিষ্ঠ ও দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকা ব্যক্তি হিসেবে দেখে। আওয়ামী লীগের ভেতরে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা না গেলেও দলটি সাধারণত রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বাইরে কোনো ব্যবস্থার বিষয়ে সংরক্ষিত মনোভাব পোষণ করে থাকে। ফলে সর্বদলীয় ঐকমত্য গড়া সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এ অবস্থায় বিকল্প হিসেবে আরেকটি নাম আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যদি কোনো ব্যক্তিকে নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো না যায়, তবে সংবিধানসম্মত পথ হিসেবে সর্বশেষ অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতিকে সরকারপ্রধান বা প্রধান উপদেষ্টা করার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে—এমন ধারণা ঘুরছে রাজনৈতিক অন্দরমহলে।
এ বিষয়ে অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতির পারিবারিক আইন প্রতিষ্ঠান ‘ইস্তিয়াক অ্যাসোসিয়েটস’-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক “বিশেষ বার্তা” পাওয়ার পর তিনি আপাতত তার সব বিদেশ ভ্রমণ বাতিল করেছেন। তবে এ তথ্যের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রশ্নটি পুরোপুরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তনির্ভর। বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা এবং আওয়ামী লীগের অবস্থানের ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী পথচিত্র। প্রধান উপদেষ্টা কে হবেন, তা নির্ধারিত হবে দলগুলোর সমঝোতা কিংবা সম্পূর্ণ অচলাবস্থার বাস্তবতার ভিত্তিতে।
সব মিলিয়ে, নির্বাচন সামনে রেখে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও সম্ভাব্য প্রধান উপদেষ্টার বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিক নয়, বরং রাজনৈতিক গুঞ্জন ও সম্ভাবনার স্তরেই রয়েছে—যা আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট রূপ নিতে পারে।
https://slotbet.online/