বাংলাদেশে ‘গুপ্ত’ পরিচয়ে নতুন জালিম আবির্ভূত হয়েছে: তারেক রহমান
বরিশাল প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশে ‘গুপ্ত’ পরিচয়ে এক নতুন জালিম আবির্ভূত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় বরিশাল নগরীর ঐতিহাসিক বেলস পার্ক ময়দানে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘জনগণ একটি রাজনৈতিক দলকে ‘গুপ্ত’ পরিচয়ে চেনেন। বাংলাদেশে তারা আজ নতুন জালিমরূপে আবির্ভূত হয়েছে।
তিনি বলেন, একটি দল জাল ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। নিরীহ মা-বোনদের থেকে বিকাশ নম্বর নিচ্ছে। যারা নির্বাচনের আগেই প্রতারণা করছে।তারা কিভাবে সৎ মানুষের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আগামী ১২তারিখ একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বরিশাল সহ সমগ্র বাংলাদেশে ১২ কোটি মানুষ ভোট প্রদান করবেন। জনগণের রায়ের ভিত্তিতে বাংলাদেশ চলবে। আমার সামনের মানুষগুলো গুম, খুন জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের পরিবারের সদস্য।এদেশের মানুষের ভোটের অধিকার বিগত ১৬ বছর ধরে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছিল। ভোটের অধিকার জনগণের জন্য লড়াই করে আনতে গিয়ে এই মানুষগুলো হত্যার শিকার হয়েছে। গুম, খুনের শিকার হয়েছে। বিগত দিনগুলোতে আমরা দেখেছি কিভাবে জনগণের ভোট নিশি রাতে হয়েছে। বিগত ২৪ সালের ছাত্র জনতার আন্দোলনের মুখে সেই নিশি রাতের মালিক, যারা এই বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এখন বাংলাদেশ হয়েছে জনগণের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে। একটি রাজনৈতিক দল যাদের একটি পরিচয় আছে। তাদের জনগণ চিনে গুপ্ত পরিচয়ে। সেই গুপ্ত রাজনৈতিক দলকে আপনারা অবশ্যই ইতিমধ্যে চিনে ফেলেছেন। এই গুপ্ত রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিরা নতুন জালেমরুপে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশে।
তিনি আরো বলেন, এই বাংলাদেশে নারী পুরুষ মিলে মাঠে কাজ করে। কৃষক ভাইয়েরা মাঠে কাজ করে। আর কিশানি বোনরাও মাঠে কাজ করে। এই দেশের গার্মেন্টস শিল্প টিকিয়ে রেখেছে এই দেশের নারী সমাজ মা ও বোনেরা। আজ আমরা অত্যন্ত ঘৃণা, কষ্টের সাথে দেখছি এই জালেমদের নেতা নারীদেরকে নিয়ে একটি অত্যন্ত কলঙ্কিত ভাষা ব্যবহার করেছে। যাদের মা-বোনদের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা, সম্মান নেই। তাদের কাছ থেকে আর যাই হোক বাংলাদেশ নিশ্চয়ই ভালো কিছু আশা করতে পারে না। কেমন করে এই নারী সমাজকে একটি রাজনৈতিক দলের নেতা কলঙ্কিত করলো।
তিনি বলেন,দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তখন নারীদের শিক্ষা ব্যবস্থা ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে করে দিয়েছিলেন।আজ আমাদের সময় এসেছে দেশ গড়ার। দেশ যদি করতে হয় তাহলে প্রতিটি নারী পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। তা না হলে এদেশ আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না। সেজন্যই আমরা প্রতিটি খেটে খাওয়া নারীদের কাছে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যার মাধ্যমে এই নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পারি। যাতে করে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা পরিবারে সমাজে অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরো বলেন, গুপ্ত সংগঠনটি যারা নারীদেরকে অপমানজনক শব্দ ব্যবহার করে। এই সব লোক যদি নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পায় তাইলে জনগণের ভাগ্য দুরবিস্ব অবস্থা হবে। এই সব গুপ্তদের থেকে আপনাদের সতর্ক থাকতে হবে। যারা দেশের মানুষকে সম্মান করতে জানে না তারা পরিকল্পনা করে রাখে ১২ তারিখের পর তারা জনগণকে নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাবে, তাদেরকে উচিত শিক্ষা দিতে হবে। এইসব গুপ্তরা ৮৬ সাল, ৭১ সাল সেইসব দেখেছি যারা এদেশ থেকে পালিয়ে গেছে তাদের সাথে সব সময় এপাশ ওপাশ ছিল।
তিনি আরো বলেন, ১৯৯৩ সালে বিএনপি তথা বেগম খালেদা জিয়া সরকার এই বরিশালকে বিভাগ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। আমরা এলাকা উন্নয়নে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজ করেছি কিন্তু আরো বহু কাজ বাকি রয়ে গেছে। যেমন এখানে শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে উন্নত করতে হবে। ভোলা মেডিকেল কলেজ ও সেতুর কাজে আমাদেরকে হাত দিতে হবে। সবচেয়ে বড় সমস্যা এই এলাকার নদী ভাঙ্গন সমস্যা।মানুষের কবর ভেঙে যাচ্ছে, বাড়িঘর ভেঙে যাচ্ছে, বাপ দাদার ভিটে মাটি ভেঙ্গে যাচ্ছে। এই বিশাল এলাকাতে আমাদের ভেড়িবাদ নির্মাণ করতে হবে। নদী ভাঙ্গন আমাদের ঠেকাতে হবে। কাজেই অনেক কাজ বাকি রয়েছে। এ সকল কাজ করতে আপনাদের সঠিকভাবে কাজ করতে হবে।
ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। অতীতে আপনারা দেখেছেন বিএনপি সব সময় আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনী এ জনসভায় বরিশাল বিভাগের বিএনপি মনোনীত ২১ আসনের বিএনপি প্রার্থীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

https://slotbet.online/