সময় ডট কম ডেস্ক রিপোর্ট:
বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এনডিটিভিতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে। সাংবাদিক অদিতি ভাদুড়ীর লেখা ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে নারীদের অবস্থা আফগানিস্তানের মতো পরিস্থিতির দিকে মোড় নিচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে যে ‘বিপ্লব’ সংঘটিত হয়েছিল, তা নারীদের জন্য আশার পরিবর্তে হতাশা বয়ে এনেছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে প্রশ্রয় দেওয়ায় দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং তাদের কারাবন্দী নেতাকর্মীদের মুক্তি দেওয়ার ফলে নারীদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
নিবন্ধে বাংলাদেশি অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ রোকেয়া প্রাচীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, নারীদের ওপর এখন পোশাকবিধি বা ড্রেস কোড চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বোরকা বা হিজাব না পরলে নারীদের রাস্তায় উত্তেজিত জনতার (মব) হাতে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এমনকি হিজাব না পরায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং বাসে নারীদের ওপর হামলার ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নারীদের ঘরের বাইরে কাজ করা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে কট্টরপন্থীরা। সম্প্রতি নারীদের জন্য সরকারি চাকরির কোটা বাতিল করা হয়েছে এবং শরিয়াহ আইনের সাথে সাংঘর্ষিক দাবি করে নারী সংস্কার বিলও স্থগিত করা হয়েছে। নিবন্ধে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের জুলাই ২০২৫-এর একটি রিপোর্টের বরাত দিয়ে বলা হয়, দেশটিতে মব ভায়োলেন্স এবং নারী ও সংখ্যালঘুদের ওপর রাজনৈতিক সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অনেক প্রগতিশীল নারী এবং পেশাজীবী এখন প্রাণভয়ে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। যারা একসময় দেশে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারাও এখন কট্টরপন্থী ও জামায়াতের ভয়ে ভীত।
নিবন্ধকারের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোকে তুষ্ট করতে গিয়ে গত এক দশকে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্যগুলো ধূলিসাৎ করে দিচ্ছে। বিশ্ববাসী এই বিষয়ে নীরব থাকলেও বাংলাদেশের নারীদের ভবিষ্যৎ এক অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
https://slotbet.online/