• বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
পটুয়াখালীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের সদস্য গ্রেফতার পর্নোগ্রাফি মামলায় ধরা পড়লেন মাওলানা মিরাজ আহমেদ চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল নেতার হামলায় একজন নিহত, কয়েকজন আহত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে ১৩ বছরের মাদ্রাসাত্রীকে যৌন নির্যাতন,মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিলে স্থানীয়রা ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তি করতে চায় সৌদি আরব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস। নিখোঁজের ১০ দিন পর মিলল মা-মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ বাকেরগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযানে ৫ জনকে কারাদণ্ড দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হলোনা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ইউপি সদস্য কালামের বাকেরগঞ্জে ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

বেগম খালেদা জিয়ার ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্ম ও শৈশব নিয়ে যা জানা যায়

পথিক / ১৬২ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : শনিবার, ৩ জানুয়ারী, ২০২৬

“খালেদা জিয়ার জন্ম আমাদের বাড়ির উল্টোদিকের বাড়িতে। দেশভাগের পরে যখন (সম্পত্তি) বিনিময় হয়, তখন অমরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এই বাড়িতে আসেন এবং খালেদা জিয়ার পরিবার বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) চলে যান”।

কথাগুলো বলছিলেন জলপাইগুড়ি শহরের নয়াবস্তি এলাকার বাসিন্দা ও জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব ভোলা মন্ডল।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর তার জন্মস্থানের বিষয়টি আবার আলোচনায় উঠে এসেছে। তিনি কোথায় জন্মেছিলেন– বাংলাদেশের দিনাজপুরে নাকি ভারতের জলপাইগুড়ি, এ নিয়ে নানা রকম তথ্য পাওয়া যাচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

তিনি মারা যাওয়ার পরে বিএনপির তরফে তার একটি সংক্ষিপ্ত জীবনীতেও লেখা হয় যে মিসেস জিয়া জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

তবে মিসেস জিয়ার জীবন নিয়ে লেখা প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ তার বই ‘বেগম খালেদা জিয়া – হার লাইফ, হার স্টোরি’-তে উল্লেখ করেছেন যে খালেদা জিয়া দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

যদিও ওই বইতেই লেখা আছে যে তারা বাবা ইস্কান্দর মজুমদার ক্লাস এইট পাশ করে জলপাইগুড়িতে বোন এবং দুলাভাইয়ের কাছে চলে যান। সেখানেই তিনি ম্যাট্রিক পাশ করেন এবং একটি চা বাগানে চাকরি শুরু করেন।

পরে চা ব্যবসায় যোগ দেন তিনি। তার বিয়ে হয় ১৯৩৭ সালে, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের জলপাইগুড়িতেই।

এই শহরটি পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলীয় জলপাইগুড়ি জেলার সদর শহর। সেই শহরের কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন যে জলপাইগুড়ির নয়াবস্তি অঞ্চলে তার বাবা ইস্কান্দর মজুমদার বসবাস করতেন এবং সেখানেই জন্ম নেন খালেদা জিয়া।

তবে এ নিয়ে ওই শহরেও নানা সংশয় এবং বিভিন্ন মতামত উঠে এসেছে। মিসেস জিয়ার জন্মস্থান নিয়ে একটি মাত্র লিখিত স্মৃতিকথা সময়ডটকম মখুঁজে পেয়েছে, যেখানে খালেদা জিয়ার জন্ম নিয়ে কিছু তথ্য আছে। তবে সেই তথ্য নিয়েও মতপার্থক্য আছে গবেষকদের মধ্যে।

এর বাইরে খালেদা জিয়ার বাবার তৎকালীন কর্মস্থল থেকেও কিছু তথ্য পাওয়া যা।

বিভিন্ন মতামত ও যতটুকু তথ্য পাওয়া গেছে তা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে সময়ডটকম

বিএনপির দেওয়া জীবনচিত্র

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মিডিয়া সেল খালেদা জিয়ার যে সংক্ষিপ্ত জীবনচিত্র সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়েছে, তার বয়ানটা এরকম :

“আদি পিতৃ-ভিটা ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মজুমদার বাড়ি। বাবা জনাব ইস্কান্দর মজুমদার ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। ইস্কান্দর মজুমদার ১৯১৯ সালে ফেনী থেকে জলপাইগুড়ি যান। বোনের বাসায় থেকে মেট্রিক পাস করেন ও পরে চা ব্যবসায়ে জড়িত হন।”

“১৯৩৭ সালে জলপাইগুড়িতে বিয়ে করেন। জল্পাইগুড়ির নয়াবস্তি এলাকায় ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত বসবাস করেন। ১৯৮৪ সালের ১৫ নভেম্বর ইন্তেকাল করেন। মা বেগম তৈয়বা মজুমদার ছিলেন একান্তভাবে একজন গৃহিণী।”

জলপাইগুড়ির বাসিন্দারা যে দাবি করছেন

খালেদা জিয়ার জন্ম জলপাইগুড়ি শহরের যে নয়া বস্তি এলাকায় বলে যে দাবি করা হচ্ছে, সেখানকার কয়েকজন বাসিন্দা মিসেস জিয়ার বাবা ইস্কান্দর মজুমদারের বাসভবন বলে একটি বাড়ি চিহ্নিত করেছেন। সেই বাড়িটির বর্তমান মালিক অরিন্দম চক্রবর্তী।

তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি, কিন্তু মিসেস জিয়ার প্রতিবেশী ছিলেন তারা, এমন দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জলপাইগুড়ি জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব ভোলা মন্ডল।

তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, তাদের বাড়ির ঠিক সামনেই বাস করতেন ইস্কান্দর মজুমদার।

“খালেদা জিয়ার জন্ম আমাদের বাড়ির উল্টোদিকের জমিতে। দেশভাগের পরে যখন (সম্পত্তি) বিনিময় হয়, তখন অমরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী এই বাড়িতে আসেন এবং খালেদা জিয়ার পরিবার বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) চলে যান,” গণমাধ্যমে বলেছেন মি. মন্ডল।

মি. মন্ডল এ দাবিও করেছেন যে তার মা খালেদা জিয়ার শৈশবে তাকে কোলে নিয়েছেন।

স্থানীয় গণমাধ্যমে একই রকম দাবি করেছেন এলাকার আরও কয়েকজন বাসিন্দা, যে তাদের পাড়াতেই জন্মিয়েছিলেন খালেদা খানম, জেনারেল জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিয়ের পরে যার নাম হয় খালেদা জিয়া।

জলপাইগুড়ি শহরের নয়াবস্তি অঞ্চলের ওই বাসিন্দারা বলছেন যে তাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মের মানুষদের, অর্থাৎ বাবা-মায়েদের সঙ্গে মিসেস জিয়ার পরিবারের যোগাযোগ ছিল।

তবে এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রমাণ তাদের কারও কাছে নেই।

যে বইতে খালেদা জিয়া এবং তার বাবা ইস্কান্দর মজুমদারের প্রসঙ্গ পাওয়া গেছে

আবার এরকম দাবিও করা হচ্ছে যে মিসেস জিয়া ‘সদর গার্লস প্রাইমারি স্কুলে’ পড়েছেন।

তবে জলপাইগুড়ির বাসিন্দা ও গবেষক গৌতম গুহরায়ের কথায়, “খালেদা জিয়া এই শহরে জন্মিয়েছিলেন, এখানে স্কুলে পড়েছেন বলে যে সব কথা শোনা যায়, তার কোনো তথ্য প্রমাণ আমি অনেক চেষ্টা করেও খুঁজে পাইনি। আগে আমরা কখনও শুনিনি যে তার সঙ্গে এই শহরের কোনো সম্পর্ক ছিল। হঠাৎই এই কথাগুলো জানতে পারি আমরা।”

“একবার হাসান আজিজুল হক জলপাইগুড়িতে এসেছিলেন, সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন যুব নেতাও ছিলেন। আমি তাদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে জানাই যে খালেদা জিয়া জলপাইগুড়িতে জন্মিয়েছিলেন এবং কিছুদিন এখানকার স্কুলে পড়েছিলেন। ওরা খুবই বিস্মিত হন এটা শুনে। সঙ্গে সঙ্গেই তারা ঢাকায় যোগাযোগ করেন। তারপরে আমাদের জানান যে জলপাইগুড়িতে খালেদা জিয়ার জন্ম – এই তথ্য সঠিক নয়,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন মি. গুহরায়।

তিনি বলছিলেন, একবার ঢাকায় বিএনপির এক সিনিয়র নেতার সঙ্গে কথা বলার সময়ে বিষয়টি আবার উত্থাপন করলে তিনিও একই কথা বলেছিলেন।

তিনি বলছিলেন, “এরপরে আমরা দেশে ফিরে এসে যে স্কুলে তিনি পড়তেন বলে বলা হচ্ছে, সেখানেও খোঁজ করি। কোনো নথি কিন্তু সেখানকার শিক্ষকরা আমাদের দেখাতে পারেননি। অনেকে বলেন যে ১৯৬৮-র বন্যায় নথি নষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু আমরা তার আগেকার অন্য নথি কিন্তু পেয়েছি, খালেদা জিয়ার সংক্রান্ত কোনো নথি পাইনি।”

মি. গুহরায় এই প্রশ্নও তুলছিলেন, যে বয়সে খালেদা জিয়ার পরিবার জলপাইগুড়ি থেকে চলে গিয়েছিলেন, তখন তার বয়স ছিল চার কি পাঁচ। সে যুগে এত কম বয়সে স্কুলে ভর্তিই করা হত না।

“তাহলে তিনি কীভাবে জলপাইগুড়ির স্কুলে পড়াশোনা করলেন?” প্রশ্ন মি. গুহরায়ের।

অন্যদিকে ‘দাস অ্যান্ড কোং’ হিসাবের খাতা যদি দেখা যায়, সেখানে ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত মুহাম্মদ ইস্কান্দরের হদিশ পাওয়া যাচ্ছে, তিনি যদি তখনও পর্যন্ত জলপাইগুড়িতে কর্মসূত্রে থেকেও থাকেন, তার পরিবারের অন্য সদস্যরা হয়তো তখন আর সেখানে ছিলেন না।

বিএনপি খালেদা জিয়ার যে জীবন চিত্র দিয়েছে, সেখানে অবশ্য তার শিক্ষার বিষয়ে লেখা হয়েছে, “খালেদা জিয়ার স্কুলজীবন শুরু হয় পাঁচ বছর বয়সে দিনাজপুরের মিশন স্কুলে। এরপর দিনাজপুর গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। পরবর্তীতে পড়াশুনা করেন সুরেন্দ্রনাথ কলেজে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/