• বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম
সাইপ্রাসের লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে সেনজেন সদস্যপদ বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার হয়ে করিডোরের প্রস্তাব চীনের ১৪ বছরের মধ্যে জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগ সর্বনিম্ন খুলনায় ফজরের নামাজের সময় অস্ত্র নিয়ে মসজিদে ঢুকে মুসল্লিদের গুলি পটুয়াখালীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের সদস্য গ্রেফতার পর্নোগ্রাফি মামলায় ধরা পড়লেন মাওলানা মিরাজ আহমেদ চাঁদা না পেয়ে ছাত্রদল নেতার হামলায় একজন নিহত, কয়েকজন আহত হয়েছে। মুন্সীগঞ্জে ১৩ বছরের মাদ্রাসাত্রীকে যৌন নির্যাতন,মাদ্রাসা শিক্ষককে আটক করে পুলিশে দিলে স্থানীয়রা ইরান ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আগ্রাসনবিরোধী চুক্তি করতে চায় সৌদি আরব নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস।

এক রাষ্ট্রে দুই আইন, অপরাধের লাইসেন্স পেল জুলাই যোদ্ধারা, জুলাই ‘যোদ্ধা’ পরিচয়ে ধর্ষণ–খুনও অপরাধ নয়*

পথিক/সময় ডটকম / ২০৭ পড়া হয়েছে
প্রকাশিত : বুধবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২৬

*এক রাষ্ট্রে দুই আইন, অপরাধের লাইসেন্স পেল জুলাই যোদ্ধারা, জুলাই ‘যোদ্ধা’ পরিচয়ে ধর্ষণ–খুনও অপরাধ নয়*

 

রাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রকাশ্যে বলেছে ‘জুলাই যোদ্ধারা’ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ বা খুন করলেও তাদের বিচার হবে না—তাহলে এটি কোনো অসতর্ক মন্তব্য নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় নীতি ঘোষণার সমান। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র নিজেই স্বীকার করে নিচ্ছে বাংলাদেশে আইন আর ন্যায়ের ভিত্তিতে চলে না চলে পরিচয়, আনুগত্য ও ক্ষমতার দাপটে।
এর অর্থ খুব পরিষ্কার দেশে এখন দুই ধরনের আইন চালু আছে। একটি সাধারণ মানুষের জন্য—যেখানে সন্দেহ হলেই গ্রেপ্তার, ছিনতাইয়ের অভিযোগে গুলি, আর গরিব হলে বিচার ছাড়াই শাস্তি। আরেকটি আইন রয়েছে ক্ষমতার আশীর্বাদপ্রাপ্ত ‘যোদ্ধা’ পরিচয়ের জন্য যেখানে ধর্ষণ ইতিহাস হয়ে যায়, খুন অবদান হিসেবে ধুয়ে-মুছে যায়।
এটি শুধু ভয়ংকর নয়, এটি সরাসরি অপরাধের লাইসেন্স বিলি করার ঘোষণা। রাষ্ট্র যখন বলে দেয় কিছু মানুষের অপরাধের বিচার হবে না, তখন সে অপরাধীদের স্পষ্ট বার্তা দেয়: “এগিয়ে যাও, রাষ্ট্র তোমাদের ঢাল।” এর চেয়ে বড় নৈতিক দেউলিয়াপনা আর কী হতে পারে?
এই বিচারহীনতার সবচেয়ে ভয়াবহ মূল্য দেবে তারা, যাদের কোনো পরিচয় নেই, কোনো তকমা নেই, কোনো ক্ষমতার পৃষ্ঠপোষক নেই। যে নারী ধর্ষণের শিকার হবে, যে পরিবার খুনের শোক বইবে, যে মানুষ ডাকাতির শিকার হবে—তাদের জন্য রাষ্ট্রের বার্তা নির্মম ও স্পষ্ট: তোমাদের ন্যায়বিচার রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নয়।
যারা সংগ্রামের নাম করে আজ অপরাধের দায়মুক্তি চাইছে, তারা কোনো সংগ্রামের উত্তরাধিকার নয়। তারা হচ্ছে ক্ষমতার দালাল—যারা অতীতের আত্মত্যাগকে বর্তমানের অপরাধ ঢাকতে ব্যবহার করছে। আর যে রাষ্ট্র এই দালালদের রক্ষা করে, সে রাষ্ট্র আর জনগণের নয় সে রাষ্ট্র ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়।
ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে—বিচারহীনতা কখনো স্থিতিশীলতা আনে না। এটি আনে আরও অপরাধ, আরও সহিংসতা, আরও ভয়। যে রাষ্ট্র নিজ হাতে আইনের কফিনে পেরেক ঠোকে, সে রাষ্ট্র একদিন নিজেই সেই কফিনে ঢোকে।
স্পষ্ট করে বলতে হবে
অপরাধীর কোনো পরিচয় নেই। ‘যোদ্ধা’ নামেও কেউ ধর্ষক হলে সে ধর্ষকই, খুনি হলে খুনিই।
এর বাইরে যে কোনো ব্যাখ্যা ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধে একটি সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ রকম আরো সংবাদ...
https://slotbet.online/