পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে পিলারের নিচে মাটি কেটে নেওয়ার পর এবার যন্ত্রাংশ চুরির মহোৎসব, দুর্ঘটনার শঙ্কা
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের প্রকল্প ‘পদ্মা সেতু রেল সংযোগ’ এখন চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়েছে। মাদারীপুরের শিবচর অংশে রেলওয়ের সিগন্যালিং ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ধারাবাহিকভাবে চুরি হওয়ায় স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। ফলে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ট্রেন চালানো হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, শিবচর রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর প্রান্তে ১৩টি ট্র্যাক পটের মধ্যে ইতোমধ্যে ৯টি চুরি হয়ে গেছে। সর্বশেষ গত ৪ জুলাই রাতে আরেকটি ট্র্যাক পট চুরি হয়। এর আগে ১৯ জুন পদ্মা রেলওয়ে স্টেশন এবং ৯ জুন শিবচর প্রান্তের সব ট্র্যাক পট চুরি হয়। এছাড়া মার্চ মাসেও একই এলাকায় সিগন্যালিং যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটে।চুরি হওয়া যন্ত্রাংশের মধ্যে রয়েছে ট্র্যাক পট, ট্র্যাক ট্রান্সফরমার, সিগন্যাল কেবল, গার্ড রেলের স্ক্রু স্পাইক, অ্যাক্সেল কাউন্টার, পয়েন্ট মেশিন, বৈদ্যুতিক কেবল ও ফিশ বোল্টসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম।
পদ্মা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. খাইরুল ইসলাম বলেন, “সিগন্যালিং যন্ত্রাংশ চুরি বেড়ে যাওয়ায় ট্রেন পরিচালনায় প্রতি মুহূর্তেই ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা না নিলে বড় ধরনের প্রাণহানি ঘটতে পারে।”
শিবচর স্টেশন মাস্টার মো. কামরুল ইসলাম জানান, সিগন্যাল ব্যবস্থা অচল হওয়ায় ‘লুক স্টিক’ ব্যবহার করে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। রেলকর্মীদের জীবনও ঝুঁকির মুখে। তিনি আরও বলেন, এলাকায় মাদকসেবী ও সন্দেহভাজনদের আনাগোনা বেড়েছে, যা চুরি রোধে বড় বাধা।
রেলওয়ে পুলিশের ভাঙ্গা অঞ্চলের পরিদর্শক শাহজালাল বলেন, চুরির ঘটনায় আগেও মামলা হয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও যাত্রীরা দাবি করেছেন, কয়েক হাজার কোটি টাকার এই জাতীয় সম্পদ রক্ষায় শুধু পুলিশি তৎপরতা নয়, স্থায়ী নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন এবং চোর চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালানো জরুরি।
https://slotbet.online/