জার্মানির বার্লিনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) যে তালিকা করেছে, সেখানে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
মঙ্গলবার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ টিআইবি) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের (টিআই) ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২৫’ প্রকাশ করেন টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সূচকটি তৈরি করা হয়েছে ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে।
টিআইবি জানিয়েছে, বিশ্বের ১৮২টি দেশের মধ্যে ১০০-তে ২৪ স্কোর নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম এবং উচ্চক্রম অনুযায়ী অবস্থান ১৫০তম।
টিআইবি মনে করছে, এ বছর বাংলাদেশের এক পয়েন্ট স্কোর বৃদ্ধির পেছনে জুলাই অভ্যুত্থানের ফলশ্রুতিতে সূচিত গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক সুশাসন অর্জনে অব্যবহিত ইতিবাচক সম্ভাবনার প্রভাব কাজ করেছে। তবে রাষ্ট্রসংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি না হওয়ায় আদতে বাংলাদেশের স্কোর ও অবস্থানের খুব একটা পরিবর্তন হয় নি।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। আগের রাজনৈতিক সরকারের মতো এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারেরও ব্যর্থতা আছে, তবে এর পেছনে রাজনৈতিক দলগুলোর অসহযোগিতা ও আমলাতন্ত্রের দলীয়করণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
“এতটুকু সময়ে রাষ্ট্র সংস্কার করে ফেলবে, সরকারের কাছে এমন প্রত্যাশা ছিল না। কিন্তু ফাউন্ডেশন স্থাপন করবে, এই প্রত্যাশা ছিল। সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বযর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের ব্যর্থতার সাথে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক দল ও পুরনো নিয়মে আমলাতন্ত্রের দলীয়করণ।”
উল্লেখ্য, এ বছর ৮৯ স্কোর নিয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে আছে ডেনমার্ক।
আর ৯ স্কোর নিয়ে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকার শীর্ষে আছে সাউথ সুদান ও সোমালিয়া।
বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের স্কোর ৩৯। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মাঝে আফগানিস্তানের স্কোর ১৬, পাকিস্তানের স্কোর ২৮, শ্রীলঙ্কার ৩৫, নেপালের ৩৪। এ অঞ্চলের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ভুটান। ১০০-এর মধ্যে ৭১ স্কোর নিয়ে তাদের অবস্থান ১৮তম।
https://slotbet.online/